
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকেরা।
আজ সোমবার দিনভর কারখানাটির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন বকেয়া রেখেই গতকাল রোববার কারখানা বন্ধের নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকেরা দাবি করেন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি করায় কৌশলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ সৃষ্টি করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং কাজে যোগদানের দাবিতে আজ তাঁরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকেরা জানান, সম্প্রতি মো. মজনু নামের কারখানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে পলাশ নামের এক শ্রমিকের দ্বন্দ্ব হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা গায়ে পড়ে শ্রমিক পলাশের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে হাতাহাতি করেন। এ ঘটনায় শ্রমিক পলাশকে মালিকপক্ষ শোকজ করলে তিনি যথাযথ জবাব দেন।
তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তারা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। এরপর গতকাল দুপুরে হঠাৎ শ্রমিকদের ওপর দায় চাপিয়ে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেয় মালিকপক্ষ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, একজন কর্মকর্তা গায়ে পড়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেন। এর জের ধরে কর্মকর্তারা কয়েক দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। বিপরীতে শতাধিক শ্রমিক নিয়মিত তাঁদের কার্যক্রম ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ডা. মনীষার অভিযোগ, মূলত কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা মালিকপক্ষের একটি কৌশল। কারণ, ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি শ্রমিকদের নিয়োগপত্র এমনকি পরিচয়পত্র পর্যন্ত দেয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকেরা আন্দোলন করেন।
তিনি জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। সেগুলো যেন দিতে না হয়, সে জন্যই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বিরোধ সৃষ্টি করে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এ বিষয়ে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।