
ভোলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬টি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৪০ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩৮ জনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। বয়স কম হওয়ায় অপর দুইজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ (ভোলা) জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৬টি ড্রেজার, একটি বাল্কহেডসহ ৪০ জনকে আটক করা হয়। পরে ভোলা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ৪০ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মেঘনা নদীর উপকূলবর্তী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাঁরা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, নদীতীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।