
প্রবাসীদের জন্য একক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা এক প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স ও বিভিন্ন সরকারি সেবা পাবেন। এটি চালু হলে আলাদাভাবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্ডের প্রয়োজন হবে না।
মঙ্গলবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। এতগুলো আলাদা কার্ডের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই, একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারেন।’ তিনি জানান, শুধু রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই নয়; ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত সুবিধাগুলো নির্ধারণ করিনি। তবে কীভাবে সহজে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়, ব্যাংকিং গেটওয়ে কীভাবে কাজ করবে এবং কারেন্সি-সংক্রান্ত সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায়—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।’ এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত সেবা ও হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে। সোমবার জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার থেকেই এই সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীরা সরাসরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়াগামী হাজারো কর্মীর শেষ মুহূর্তে বিদেশ যেতে না পারার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিট সংকট এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ তদন্তে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত প্রতিবেদন দেবে। যেসব এজেন্সি অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও টিকিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণা করেছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল ও প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও যারা আটকা পড়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে বিশেষ সুবিধার জন্য। কোনো সিন্ডিকেটের কাছে সরকার মাথা নত করবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।