
নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দুরা গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (রিপন ভিডিও) পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সালিশি বৈঠক। রোববার (২ আগস্ট) রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র মতে, রিপন মিয়া সম্প্রতি নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রিপন মিয়া আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ধর্ষণ করেন। স্থানীয় দুজন বিষয়টি দেখে ফেললে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিআরডিবির সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতের কয়েকজন নেতা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সাত দিনের মধ্যে তা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলেই আমরা জেনেছি। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই, তাই এলাকাবাসী মিলে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও স্ত্রী-সন্তানের পরিচয় গোপন রাখা এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা না করার অভিযোগ উঠেছিল রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে রিপন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।