
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় নবায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ভারত, যা বৈশ্বিক তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। এক সরকারি সূত্র বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভারতীয় সরকারি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুর দিকে ভারতীয় রিফাইনারিগুলোর জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড়পত্র জারি করে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে ইতিমধ্যে লোড হওয়া অপরিশোধিত তেল ক্রয় করতে পারে । এই ছাড়পত্রের মেয়াদ এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের চাহিদার প্রেক্ষিতে ভারত আশা করছে ওয়াশিংটন এই নীতিগত শিথিলতা অব্যাহত রাখবে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়পত্রের পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলো প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান ক্রুড তেল ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে ।
একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু-উৎস থেকে তেল আমদানির নীতিতে অবিচল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কাম্য।” তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন এখনও ছাড় নবায়নের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ান তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ বা শিথিলকরণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি এবং ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অন্যদিকে, ভারত দাবি করে আসছে যে কোনো দেশের কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে, এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈধ উপায়ে ক্রয় চালিয়ে যাওয়া তার অধিকার ।
এপ্রিল মাসের শুরুতে ৩০ দিনের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক তেলবাজারের স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক বিবেচনায় এই নমনীয়তা অব্যাহত রাখবে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলমান রয়েছে।