
চীন বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সোমবার জানিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তা প্রদানের জন্য চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হবে। চীন সরকার মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি “সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী” এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বেইজিং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে চীন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রেরণ করবে। এই দল স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মহামারি নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
“চীন সরকার কঙ্গোকে মানবিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে,” লিন জিয়ান বলেন। এই ঘোষণা আফ্রিকার স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইবোলা ভাইরাস একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা মূলত শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। ডিআর কঙ্গোতে পূর্বেও একাধিকবার ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও সম্প্রদায়গুলো গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
চীনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মহামারি প্রতিরোধে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে চীনের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ, কার্যকর যোগাযোগ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা ইবোলা নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। চীনের চিকিৎসা দলের আগমন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, রোগী শনাক্তকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে সহায়ক হতে পারে।