
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার গত মার্চ পর্যন্ত আগের ধারণার চেয়ে অনেক ধীর গতিতে এগিয়েছে। ব্লুমবার্গ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস (BLS) আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত বার্ষিক বেন্সমার্ক রিভিউতে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান কম বলে সংশোধন করতে পারে। এতে বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের দ্রুত সুদের হার কমানোর জল্পনা জোরালো হয়েছে।
সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ—এই ১২ মাসে নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন, যা আগের প্রকাশিত ২.৮ মিলিয়নের চেয়ে ৩৬ শতাংশ কম। সবচেয়ে বড় হ্রাস খুচরা, পরিবহন-ওয়্যারহাউজিং এবং পেশাদার সেবা খাতে দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাস্তব চিত্র আরও দুর্বল হওয়ায় ফেড ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর পথে থাকলেও নতুন করে রেট-কাটের সম্ভাবনা বেড়েছে।
ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ আন্না ওং মন্তব্য করেন, “এত বিশাল সংশোধন মানে শ্রমবাজারে চাপ আগে থেকেই তীব্র ছিল; ফেড যদি সুদের হার ০.৫০ শতাংশ না কমায়, সেটিই বড় চমক হবে।” বাজার-ভিত্তিক প্রতিক্রিয়ায় সেপ্টেম্বর-এফওএমসি বৈঠকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সম্ভাবনা ৭০ শতাংশে উঠে এসেছে, যা গত সপ্তাহ ছিল ৩৫ শতাংশ।
শ্রম বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিক জরিপে নতুন প্রতিষ্ঠানের জনসংখ্যা ও প্রতিষ্ঠান-জন্মের হার বেশি ধরা হয়েছিল; পরবর্তীতে কর্পোরেট ট্যাক্স রেকর্ড ও বেকারত্ব বীমা দাবি যাচাই করে দেখা যায় বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
রিভিউ প্রকাশের আগেই হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা বলেছেন, “আমরা শ্রমবাজারের গতি হারাচ্ছি না, তবে গতি ধীর হওয়া স্বাভাবিক; ফেডের স্বাধীনতায় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না।”
অপরদিকে, শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রম অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সংশোধনের পরও বাস্তব মজুরি-প্রবৃদ্ধি অনেকের জন্য অপ্রতুল; বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশ থাকলেও প্রকৃত অর্থে অনেকেই আংশিক কাজ বা বহু চাকরির ওপর নির্ভরশীল।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন ১৮ সেপ্টেম্বরের এফওএমসি বৈঠকে—যদি ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়, তা ২০২০-এর পর সবচেয়ে বড় এক-বৈঠকে কাটছাঁট হবে। ডলার সূচক সাময়িক দুর্বল হলেও ট্রেজারি ইয়েল্ড ১০ বছরের নিচে ৩.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ঋণের ব্যয় কমাতে সহায়ক।