
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সতর্ক করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন রাষ্ট্রবিরোধী ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়, মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সংগঠনটি অফলাইন ও অনলাইন বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিচারিক রায়ের পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক বৈঠকে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অংশগ্রহণের মধ্যে পবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষকও রয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিতকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে রাষ্ট্রের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।