
বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনের ৪৭তম দিনে সোমবার (২৭ জুলাই) অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকরা বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন। জুলাই মাসের মধ্যে তাদের সমুদয় বকেয়া পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
Body: এ উপলক্ষে সকালে অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন।
নেতারা সমাবেশে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্বনোটিশ বা সক্রিয় সিবিএ (CBA) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গত ১১ জুন অলিম্পিক ফাইবার এবং ১৩ জুন অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধের ঘোষণাপত্রে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে শ্রমিকরা ১১ জুন থেকে আইনানুগ প্রাপ্য পরিশোধের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বক্তারা জানান, গত ৪৭ দিনে তিন দফা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরও মালিকপক্ষ শুধু বকেয়া বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে। শ্রমিকদের ওভারটাইম, বিভিন্ন ভাতা, চার মাসের নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট ও ছুটির পাওনাসহ সমুদয় হিসাব পরিশোধের বিষয়ে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। নেতৃবৃন্দ অলিম্পিক সিমেন্টের ৪১৯ শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা অতিদ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে এবং প্রয়োজনে মালিকের সম্পদ জব্দ করে পাওনাদি পরিশোধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল হাওলাদার, সহ-সভাপতি হান্নান হাওলাদার, অলিম্পিক সিমেন্ট ট্রাক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড প্রতিনিধি মো. ফারুক, অফিসারদের প্রতিনিধি আইটি অফিসার জিয়াউল হক জিয়া এবং ইলেকট্রিক ফোরম্যান শরিফুল ইসলাম। এ সময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে এবং জুলাই মাসের মধ্যে বকেয়া পাওনাদি পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।