1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলি আকবর খান চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে সব সেবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন: জুনের মধ্যে বিধিমালা হালনাগাদ, আগস্টে তফসিল ও অক্টোবরে ভোটের প্রস্তুতি মে মাসে মব সহিংসতায় নিহত ৩২, ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ: এমএসএফ তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ধানমন্ডিতে আটক ২৬ দুমকিতে নবাগত ইউএনও হিসেবে যোগ দিলেন আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ দল পাঠাচ্ছে চীন মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি চার দশকের সর্বোচ্চে: এআই চিপের চাহিদায় অর্থনীতিতে নতুন গতি

বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

মোঃ সামিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে ভোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।

জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় এই প্রবীণ রাজনীতিককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন, আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ ও সাবেক পৌর মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন ভোলাবাসীর অভিভাবক। তাঁরা জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজার পর হেলিকপ্টারে তাঁর মরদেহ ভোলায় আনা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হেলিপ্যাডে পৌঁছালে সেখানে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় জমে। পরে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়ক

বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণআন্দোলনের ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা মৌলভী আজহার আলী ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা ফাতেমা খানম ছিলেন গৃহিণী।

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চার ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনে নেতৃত্ব দেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফাকে ছাত্রসমাজের ১১ দফার সঙ্গে যুক্ত করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের সমাবেশে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণাও দেন তোফায়েল আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায়

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক অধিনায়কের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চলের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ৩৩ মাস কারাবন্দি থাকার পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন এবং ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন

তোফায়েল আহমেদ ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধারে ছাত্রনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অসুস্থতার কারণে ২০২১ সালের পর তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই সীমিত হয়ে আসে। তবে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট