
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষক ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতিসহ শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে আগামী ২২ এপ্রিল থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সৃষ্ট জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষক সংকট এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ২১ এপ্রিল কর্মবিরতি পালন করবেন। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ২২ এপ্রিল থেকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।
শিক্ষকরা জানান, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান ও পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি ইউজিসি থেকে জারিকৃত এক নির্দেশনায় চ্যান্সেলরের অনুমোদন ছাড়া এসব কার্যক্রম বৈধ হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান একাডেমিক কার্যক্রম ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম, পরীক্ষা এবং ডিগ্রি প্রদান পর্যন্ত আইনগত জটিলতায় পড়তে পারে। বিশেষ করে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে আছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঁচটি ব্যাচের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছি। কিন্তু ইউজিসির নির্দেশনা ও চ্যান্সেলরের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি এড়াতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে থাকে।