
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি চরাঞ্চলে এক নারী ও তার শিশু কন্যাকে কয়েক দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২১ সালের একটি রাতে ঘটে। ওই সময় তাকে, তার দুই কন্যা এবং বৃদ্ধা মাকে বসতঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় একদল ব্যক্তি। পরে উপজেলার চরমোজাম্মেল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা বাজার সংলগ্ন একটি ভবনের কক্ষে তাদের কয়েক দিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় তাকে এবং তার শিশু কন্যাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। পরবর্তীতে স্বজনরা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী জানান, এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে মূল অভিযোগ আড়াল করা হয়েছে। তার দাবি, ২০২২ সালে তার বসতঘর ভাঙচুর ও গবাদিপশু লুটের ঘটনা ঘটে এবং তাকে চর এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি লক্ষ্মীপুরে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখিত নীরব এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে অভিযুক্ত নীরব সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
এদিকে, ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাদির হোসেন রাহিম সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, অভিযুক্তের স্বজনদের নেতৃত্বে একটি চক্র মেসেঞ্জার গ্রুপে বিকৃত ছবি ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভোলার তজুমদ্দিনে একাধিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি সাইবার হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।