
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। প্রতিদিনের যানজট, দীর্ঘ ভোগান্তি ও বাড়তে থাকা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান সড়ক হওয়া সত্ত্বেও মহাসড়কটির অধিকাংশ অংশ এখনো সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালীতে একটি বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি উত্থাপন করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলার অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে মতামত প্রকাশ করে বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণের আগে ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাদের যুক্তি, বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো নিরাপদ ও আধুনিক না হলে বড় ধরনের যোগাযোগ প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারবে না।
পরিবহন চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতির যানবাহন ও ভারী পরিবহনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। এতে সময় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপও। স্থানীয়দের মতে, চার লেন সড়ক নির্মাণ হলে যাতায়াত যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।
পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে উন্নত সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো বর্তমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় ভাঙ্গা–পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নিরাপদ সড়ক শুধু যোগাযোগ সহজ করে না, এটি মানুষের জীবনরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই মহাসড়ক গড়ে উঠবে।