1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :

জ্বালানি সংকটে অচল দশমিনা: কর্মহীন দেড় হাজার বাইকার, ব্যাহত কৃষি ও নৌযান চলাচল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতিতে ভেঙে পড়েছে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ এবং নৌপথে যাতায়াতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলায় ভাড়ায়চালিত প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মোটরসাইকেলচালক জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া জ্বালানি সংকটের কারণে তাঁদের অধিকাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি বিক্রি করা প্রায় ২০০ দোকান বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে প্রতি লিটার জ্বালানি ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক সহিদুল ইসলাম বলেন, আগে সহজেই জ্বালানি পাওয়া গেলেও এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুঁজেও পাওয়া যায় না। বেশি দামে কিনলেও আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কিস্তি ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।

দশমিনা–পটুয়াখালী সড়কের চালক জামাল মিয়া জানান, পটুয়াখালী শহর থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পাওয়া গেলেও একবার ট্রিপ দেওয়ার পর ফেরার নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপথেও। হাজিরহাট লঞ্চঘাট থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন রুটে আগে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭টি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ থেকে ২টিতে। স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

যাত্রী মো. হারুন হাওলাদার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়ায় যাতায়াত করা যেত, এখন তার দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি খাতেও সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। যেখানে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০টি মোটরসাইকেল থাকত, সেখানে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি। এ সুযোগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়াও বেড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

তৈল বিক্রেতা রাজিব বলেন, বরিশাল থেকে জ্বালানি আনতে না পারায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার বিক্রি শুরু করা যাবে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট