
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া এলাকায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম মেহেদী (১৭), সে এলাকার মাওলানা ফেরদৌসের ছেলে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া স্কুল ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন নিজ বাড়ির দরজার ঘাটলায় গোসল করতে নামে মেহেদী। গোসলের একপর্যায়ে সে নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মেহেদী ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মেহেদী জন্মগতভাবেই বাকপ্রতিবন্ধী ছিল। সে কথা বলতে পারত না, তবে শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিশেষ যত্নে রাখতেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের চাচা মো. জাকির হোসেন বলেন, “মেহেদী আমাদের খুব প্রিয় ছিল। সে কথা বলতে পারত না বলে আমরা সবসময় তার দিকে নজর রাখতাম। আজ সকালে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে গেল।”
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোনো অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়নি।”
বাংলাদেশের নদীমাতৃক অঞ্চলে পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। নিরাপদ গোসলের স্থান, সাঁতার শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।