1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটার মামলায় ২ জন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ ভোলায় কোর্ট পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন ভোলায় ডাকাত দলের প্রধান নুরে আলম গ্রেপ্তার পটুয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলনে কাজী গোলাম সরোয়ার সভাপতি, ওয়াহিদুজ্জামান সম্পাদক নির্বাচিত রাঙ্গাবালীতে ডিজিটাল ‘ক্লাউডফাই’ অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ঋণ বিতরণ বকেয়া পাওনার দাবিতে বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্টের শ্রমিকদের ডিসি কার্যালয়ে অবস্থান ও স্মারকলিপি কলাপাড়ায় ২০ টাকার প্রলোভনে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গলাচিপায় মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে দেওয়ার অভিযোগ পটুয়াখালীতে একশটিরও বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শুরু আইপিএসসি বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উৎসব মহিপুরের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় দুই পলাতক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ভোলায় মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস: ১৫ পরিবার করছে গ্যাসে রান্না

মোঃ সামিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় জেলা ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। লেয়ার মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের পরিবারসহ আশপাশের আরও অন্তত ১৫টি পরিবারে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছেন খামারি রাকিব। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমছে, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় খুলে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
ভোলা-র দৌলতখান উপজেলা-র মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সগির আহম্মেদ রাকিব দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই হাজার লেয়ার মুরগির খামার পরিচালনা করে আসছেন। তার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮৫৫টি ডিম উৎপাদিত হলেও, মুরগির বিষ্ঠার সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ ও পরিবেশগত সমস্যায় ভুগতে হতো তাকে এবং আশপাশের বাসিন্দাদেরও ছিল নানা অভিযোগ।
রাকিব জানান, খামারের বর্জ্য থেকে সৃষ্ট তীব্র দুর্গন্ধের কারণে সামাজিক ও পারিবারিক নানা অস্বস্তির মুখে পড়তে হতো তাকে। এমনকি আত্মীয়স্বজনও বাড়িতে থাকতে চাইতেন না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ দেখায় বিশ্ব ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর স্মার্ট পোল্ট্রি প্রকল্প। প্রকল্পটির আওতায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর পরামর্শে তিনি খামারে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করেন।
জিজেইউএস-এর সহকারী পরিচালক তরুণ কুমার পাল বলেন, লেয়ার মুরগির বিষ্ঠায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা দ্রুত গ্যাস উৎপাদনে সহায়ক। তিনি আরও জানান, “আমাদের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সম্পদ সাশ্রয়ী উৎপাদন ও বর্জ্যের সঠিক ব্যবহার। এরই ধারাবাহিকতায় খামারিদের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
বর্তমানে এই প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে রাকিবের নিজের পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১৫টি পরিবার রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। gcjgs বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী মমতাজ বলেন, “আগে সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতাম। সব সময় গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা থাকত। এখন সে টেনশন নেই।”
একই এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বলেন, “বায়োগ্যাস ব্যবহারের পর রান্নায় সময় কম লাগে, খরচও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম এলাকায় লাইনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া যাবে—এটা কখনো কল্পনাও করিনি। এই উদ্যোগ আমাদের এলাকার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
রাকিবের সাফল্য আশপাশের খামারিদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে। লেয়ার খামারি কামরুনাহার বলেন, “আমার খামারে এক হাজার লেয়ার মুরগি আছে। বিষ্ঠা নিয়ে সব সময় সমস্যায় থাকি। এমন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করতে পারলে সমস্যার বড় অংশই কমে যাবে।”
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার সাদিয়া এগ্রা ফার্মের স্বত্বাধিকারী মাওলানা মনিরুল ইসলাম বলেন, “বায়োগ্যাস একটি কার্যকর উদ্যোগ। এতে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খামারিদের দীর্ঘদিনের বর্জ্য সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। খামারিরা যদি আরও বেশি করে এগিয়ে আসেন, তাহলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি তারাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস উৎপাদন উপকূলীয় ও গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট