
পটুয়াখালীর বাউফলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করে সরকারি খাস জমি চাষাবাদের অনুমতিপত্র তৈরির অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে আটক করে পুলিশে দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাবি করেছেন, ওই আসামিকে তিনি থানায় গ্রহণ করেননি।
আটক সাইফুল শরীফ (৪০) উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব গ্রামের জামাল শরীফের ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের স্থানীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। অভিযোগ রয়েছে, থানায় নেওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু জানান, সাইফুল শরীফ স্থানীয়দের কাছে একটি অনুমতিপত্র প্রদর্শন করে দাবি করেন যে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলমগীর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি এবং সরকারি খাস খতিয়ানের মোট ৯০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি তিনি পেয়েছেন। ওই অনুমতিপত্রের কপি তার নজরে এলে দেখা যায়, সেখানে তার (এসিল্যান্ডের) স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরে তার টিম সাইফুলকে আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। দায় স্বীকার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধান অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না দাবি করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আসামি আমার থানায় নেই।’ ফলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের হাতে আটক হওয়া একজন ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তরের পর কীভাবে মুক্তি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।