
পটুয়াখালীর গলাচিপায় একাধিক দোকান ও পৌরসভার পানির মিটার চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মালামাল চুরির সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মালামাল চুরির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করে গলাচিপা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গলাচিপা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক পানির মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। গত ২৭ জুন রাত প্রায় ৪টার দিকে পৌরসভার কয়েকটি পানির মিটার চুরি হয়। এর মধ্যে গলাচিপা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাপ্পী মিয়ার বাড়িসহ গলাচিপা গার্লস স্কুল রোড এলাকা থেকে মোট চারটি মিটার চুরির ঘটনাও রয়েছে। ওই সময় সিসিটিভি ফুটেজে একজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও তাকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি পৌরসভার ময়লার গাড়ি ব্যবহার করে চলাফেরা করতেন। ফলে অনেকেই তাকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মনে করতেন এবং এই সুযোগে তিনি চুরির ঘটনা ঘটাতেন।
বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আবুজর মো. ইজাজুল হককে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডেকে পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিলেও তখন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গলাচিপা থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পূর্বের চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আইন অনুযায়ী তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউএনওর দ্রুত পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, তিনি নিয়মিত সকালেই অফিসে উপস্থিত হন এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনেন। প্রয়োজনে সরকারি সময়ের বাইরেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।