
ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর একটি ফ্লাওয়ার মিলে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক সাদা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী বরিশালের স্বরূপকাঠি উপজেলার ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া ও তাঁর ম্যানেজার কামরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ব্যবসায়িক কাজে ভোলায় আসার পর তাঁদের জোর করে বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত খান ফ্লাওয়ার মিলসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন আগে বিকেলে ভোলা শহরের পুলিশ লাইনস মোড় এলাকা থেকে মিন্টু মিয়াকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে খান ফ্লাওয়ার মিলসে নিয়ে গিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে সাদা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিন্টু মিয়ার দাবি, তাঁর ব্যবহৃত দুটি ব্যাংক চেক, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের অর্থ এবং নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্বজনদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণও দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাতে তাঁকে ভেদুরিয়া ঘাট এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খান ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জামাল উদ্দিন খান অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মিন্টু মিয়ার সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বিসিক শিল্প নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে জামাল উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে কালোবাজারি, নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন এবং প্রভাব খাটানোর বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলা হলেও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা আমার জানা নেই। তবে অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না।”
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।