
পটুয়াখালীর বাউফলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিন চন্দ্র হালদার হত্যা মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাকিন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রবিন চন্দ্র হালদারকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রতন চন্দ্র বেপারী (৩২), প্রদীপ চন্দ্র বেপারী (২৫), অনল চন্দ্র বেপারী (৬০), সুমন চন্দ্র বেপারী (২৮), শান্ত চন্দ্র বেপারী (৩৬) ও কুসুম রানী (৫৫)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্র, লোহার রড, পাইপ, শাবল ও লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, পূজা-পার্বণের অর্থ ব্যবস্থাপনা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং সামাজিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্ত এখনো চলমান। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা পরিকল্পনাকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’