
পটুয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝাউতলা ফোর-লেন এলাকায় বড় এলইডি পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিদ্যুৎ অপচয়ের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, রাতের বেলা বড় এলইডি পর্দায় খেলা প্রদর্শনের ফলে অতিরিক্ত জনসমাগম হতে পারে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুতের অপচয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে ঝাউতলা (ঝাউবন) এলাকায় এলইডি পর্দায় খেলা প্রদর্শনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে ঝাউতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে হতাশ ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের ভাষ্য, বড় কোনো টুর্নামেন্টে একসঙ্গে খেলা দেখার মধ্যে আলাদা এক আনন্দ রয়েছে, যা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, “চার বছর পরপর বিশ্বকাপ আসে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ অন্যরকম। প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারত, কিন্তু পুরো আয়োজন বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কষ্ট পেয়েছি।”
ফুটবলপ্রেমী সোহেল রানা বলেন, “ঝাউতলায় খেলা দেখার আয়োজন হওয়ার পর শহরের মানুষ নতুন একটি বিনোদনের সুযোগ পেয়েছিল। এখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাই আমরা চাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হোক।”
আয়োজক আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান বলেন, “তরুণদের জন্য একটি সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করতেই আমরা বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছিলাম। কোন প্রেক্ষাপটে প্রশাসন এটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তা বোধগম্য নয়। খেলা দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে আসতেন, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছিল। সাধারণ মানুষের আবেগ ও আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজনটি চালু রাখার অনুরোধ জানাই।”
এদিকে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন চালু রাখার দাবিতে প্রশাসনের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও ঝাউতলায় উন্মুক্ত স্থানে এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়েছিল, যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।