
পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক শিশু ছাত্র ও এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ও পৌরশহরে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম ঘটনায়, গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাসবাড়িয়া চৌরাস্তার পাশের একটি ডোবা থেকে মাইনুল খান (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। নিহত মাইনুল বাসবাড়িয়া গ্রামের মনির খানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছের একটি মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সে। রাত গভীর হলেও বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রাস্তার পাশের ডোবায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকালে গলাচিপা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়া আক্তার (২৫) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামিয়া গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে তার বান্ধবী ঝুমুরের বাসায় অবস্থান করছিলেন। সকালে ঘরের ভেতর তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
নিহত লামিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ কলাবাগান এলাকার আলমগীর হোসেন ও ময়না বেগম দম্পতির মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
গলাচিপা থানা পুলিশ পৃথক দুটি ঘটনার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দুই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
একদিনের ব্যবধানে দুইটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গলাচিপাজুড়ে আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।