
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় গৃহবধূ বকুল বেগম হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার (২৪ মে) দুপুরে ভোলা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দুলারহাট থানার মুজিবনগরের আব্দুল মালেক পণ্ডিত, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আব্দুল মান্নান। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ রফিক। প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করার দায়ে মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও মোহাম্মদ সোহাগকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ আলম বাচ্চু মেলকারকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, মোহাম্মদ কবিরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে দুলারহাট থানাধীন মুজিবনগর ইউনিয়নের শিকদারের চর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আলম বাচ্চু মেলকারের বসতঘরের সামনের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গৃহবধূ বকুল বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বড় বোন মুকুল বেগমও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দুলারহাট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) হযরত আলী হিরণ জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশে হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত তদন্ত, ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে হত্যা মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি সম্ভব।