
উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য ও বজ্রমেঘের প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল দুপুর থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
জেলার কলাপাড়ায় গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১১৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পটুয়াখালীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যা সাধারণত মাঝারি ধরনের ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসে জারি করা হয়।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই সংকেতের অর্থ হলো সমুদ্রবন্দরে ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সাগরের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে।
এ অবস্থায় সকল মাছধরা নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিম্নআয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।