
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়ন ও দুমকী উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় মৌকরন বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে মৌকরন ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন পায়রা নদীর একটি শাখা খালের মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাঁধ নির্মাণের পর মৌকরন খাল ও এর শাখা খালগুলোতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে, দুমকী উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা গ্রামের বাসিন্দারা বাঁধটি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, বাঁধটি নির্মাণের পর থেকে পায়রা নদীর তীব্র স্রোত, জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙন থেকে তারা সুরক্ষা পাচ্ছেন।
মৌকরন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ হক সিকদারের ছেলে মনিরুজ্জামান কুট্টি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে গ্রামবাসীর অর্থায়নে বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার এক্সকেভেটর দিয়ে বাঁধ কাটার কাজ শুরু করলে অপরপক্ষ বাধা দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।” তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে রাকিব (১৮), শাহাদাত হোসেন (২৫) ও ইছা আকন (৩৫)-সহ তাদের পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, কার্তিকপাশা গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন মাহামুদ বলেন, “বাঁধটি নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেয়েছি। কিন্তু কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নিয়েছেন। শনিবার বিকেলে তারা এক্সকেভেটর দিয়ে বাঁধ কাটতে শুরু করলে আমরা কারণ জানতে চাই। এ সময় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।” তিনি জানান, সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষক সোহরাফ হোসেন (৫২), নেছার (৩০), মাসুদ প্যাদা (৪৫) ও জাকির সরদার (৪৫)-সহ তাদের পক্ষের ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে দুমকী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আপাতত বাঁধ কাটার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “বেড়িবাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। বাঁধ কাটা বা না কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে। আহতরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”