
পটুয়াখালীর দশমিনায় অবৈধভাবে পরিবহনকালীন ১৫ লাখ গলদা ও বাগদা চিংড়ি রেণু জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রেণু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ এবং চালককে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে জব্দকৃত রেণুগুলো তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ এলাকার সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজ সংলগ্ন সড়ক থেকে ট্রাকটি আটক করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বশার ট্রাকটি থেকে পানি পড়তে দেখে সন্দেহবশত থামিয়ে তল্লাশি করেন। এসময় ট্রাকের ১২টি ড্রামে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেণু দেখে তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ এবং চালক নাসির উদ্দিনকে আটক করে। রোববার সকাল ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধার নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত অবৈধভাবে রেণু পরিবহনের দায়ে চালক নাসির উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, জব্দকৃত ১২টি ড্রামে প্রায় ১৫ লাখ গলদা ও বাগদা রেণু ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে রেণুগুলো তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বশার বলেন, ‘ট্রাক থেকে পানি পড়তে দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি করে ড্রামভর্তি রেণু দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই।’
এসময় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস, দশমিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাবুদ্দিন, ডিএসবি সদস্য হারুন অর রশিদসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু আহরণ ও পরিবহন জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।