
আসন্ন শীতের জন্য গ্যাস মজুত বাড়াতে ইউক্রেন গ্রিস থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ও ডিজেল আমদানি বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোগাজ। রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি এখন আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ইতোমধ্যে গ্রিসের টার্মিনাল ও ‘ভার্টিক্যাল গ্যাস করিডর’ পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি পাচ্ছে, তবে মোট আমদানির তুলনায় এর অংশ এখনও কম।
২০১৬ সালে গ্রিস, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও হাঙ্গেরি মিলে এই করিডর উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়, যা দ্বিমুখীভাবে গ্যাস পরিবহনের সুযোগ দেয়। বর্তমানে ইউক্রেন এই অবকাঠামোর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেতস্কি গ্রিসের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যারি থিওহারিসের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, ইউক্রেন এবং পূর্ব ইউরোপ অঞ্চলের জন্য গ্রিক বন্দর হয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজেল জ্বালানি সরবরাহ ও গ্রিক জাহাজ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ তেল শোধন ক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দেশটি এখন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সম্প্রতি ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছে এবং এপ্রিল মাসে জ্বালানি সংকট হওয়ার আশঙ্কা কম। একই সঙ্গে মার্চে গ্রিসের রেভিথুসা এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২.৪১ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস আমদানির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে ইউক্রেনের জন্য বিকল্প সরবরাহ উৎস নিশ্চিত করা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।