
পটুয়াখালীর কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একই বিভাগের শিক্ষক মো. নাজমুল আলম বাদল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাব্বি ইসলাম রনির আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কাইয়ুম ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাওসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত ভুক্তভোগী শিক্ষকের মেয়ে নিশাত তানজুম আশার জবানবন্দি ও নালিশি মামলা আমলে নিয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মেডিকেল প্রতিবেদন সংগ্রহপূর্বক এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের লাইব্রেরি কক্ষে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত শিক্ষক বাদল মাতুব্বর। হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ভিকটিমের বাম হাতের কব্জির নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অনিবন্ধিত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক বাদল মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাকে কলেজে আসতে বাধা দেওয়া এবং পূর্বেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বাদল মাতুব্বর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। তদন্তে সত্য প্রকাশ পাবে।”
কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাতেমা হেরেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হইনি।”
কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পর কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ বা আর্থিক লেনদেন নিয়ে সংঘাতের ঘটনা মাঝেমধ্যেই আলোচনায় আসে। সরকারি কলেজগুলোতে এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব কখনও কখনও সহিংসতায় রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বন্দ্ব নিরসনে সুষ্ঠু মধ্যস্থতা ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।