
পটুয়াখালীর বাউফলে যমুনা টেলিভিশনের করেসপন্ডেন্ট সাংবাদিক রইসুল ইসলামকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল সালাউদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। হুমকিসংক্রান্ত অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বুধবার (১৩ মে) রাতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক রইসুল ইসলাম উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকায় ‘মুজিব কেল্লা’ নামক আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের কাজ করছেন অভিযুক্ত সালাউদ্দিনের চাচা ও ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ রিপন হাওলাদার। চাচার ঠিকাদারি কাজের অনিয়ম খোঁজায় ক্ষিপ্ত হয়ে সালাউদ্দিন টানা কয়েকদিন ফোন করে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে শোনা যায়, দীর্ঘ সময়ের কথোপকথনে পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিন নানামুখী হুমকি দেন। একপর্যায়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়াসহ হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। অডিওতে ওই পুলিশ সদস্য নিজের পরিচয় গোপন রাখলেও মুঠোফোন নম্বর যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে।
অভিযুক্ত সালাউদ্দিন হাওলাদার বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের রাবাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। বাউফল রিপোর্টারস ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “একজন পুলিশ সদস্য যদি এভাবে সাংবাদিককে হুমকি দেয়, তাহলে বিষয়টা সত্যি উদ্বেগজনক। স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা মুখে বললে হবে না, বাস্তবায়ন করতে সরকারের কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।”
পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরিফ বলেন, “ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, বিষয়টা দুঃখজনক। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই পুলিশ সদস্যের অপসারণ দাবি করছি।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জাতীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার সরকারের কাছে সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তমূলক সাংবাদিকতা করার সময় সাংবাদিকরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের থেকেই হুমকি আসার ঘটনা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাংবাদিকদের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।