
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ভোলায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন নৌঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। বিশেষ করে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করেছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা যাত্রী সোবাহান বলেন, “ভিড় বাড়ার আগেই চলে এসেছি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করাই মূল উদ্দেশ্য।”
মিরপুর থেকে আসা যাত্রী তাসলিমা জানান, “আমার স্বামীর এখনো ছুটি হয়নি ভিড় শুরুর আগেই আমি বাড়ি চলে এসেছি। পরে স্বামীর ছুটি হলে তিনি আসবেন।”
ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কারখানায় কর্মরত জুবায়ের হোসেন বলেন, “ঈদের সময় শুধু মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি আসি। এবার ভালোভাবে আসতে পেরেছি, এটাই শান্তি।”
লক্ষ্মীপুর থেকে আসা যাত্রী আসমা বলেন, “আমরা চাই নিরাপদে যেমন বাড়ি আসছি, তেমনি নিরাপদে যেন আবার কর্মস্থলে ফিরতে পারি। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যেন না হয়।”
এদিকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকেও নিয়মিত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। এ রুটে প্রতিদিন প্রায় ১৬টি লঞ্চ চলাচল করছে। পাশাপাশি সরকারি নৌপরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত ছয়টি সি-ট্রাকেও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
তবে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে করেও উত্তাল মেঘনা নদী পার হচ্ছেন বলে ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে ভোলা-বরিশাল নৌরুটেও যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বরিশাল থেকে আসা যাত্রীরা ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট হয়ে ভোলায় প্রবেশ করছেন। এ রুটে প্রতিদিন প্রায় ৫০টির মতো লঞ্চ চলাচল করছে। এছাড়াও ভোলা-লাহারহাট ও ভোলা-বরিশাল রুটে নিয়মিত স্পিডবোট চলাচল করছে।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে যাত্রীদের চাপ ততই বাড়বে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কায়সার বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকা ও সড়কে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ডা. শামিল রহমান জানান, কোনে ঘাটে ৫ টাকার বেশি ১০ টাকা করে টিকিট এর মূল্য রাখে যাবেনা, ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
জেলা পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে।