
স্বামীকে হারিয়ে দুই কন্যাকে নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করেছেন ভোলার লালমোহনের শাহানুর বেগম (৫৮)। তিন দশকের বেশি সময় ধরে অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার। সরকারি কোনো সহায়তা পাননি তিনি।
প্রায় বিশ বছর আগে স্বামী নূর হোসেনকে হারান শাহানুর। তখন ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নেন বাবা-মায়ের কাছে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তাদের রেখে যাওয়া অন্যের জমির ঝুপড়ি ঘরেই এখন তার স্থায়ী বসতি।
শাহানুর জানান, স্বামী জীবিত থাকতে দিনমজুরির আয়েই সংসার চলত। স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের বাড়িতে কাজ করে, শাকপাতা সংগ্রহ করে বিনিময়ে চাল এনে কোনো রকমে দুই মেয়েকে বড় করেছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েদের বিয়ে দিলেও তারাও অসহায় জীবনযাপন করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “কত অসহায় মানুষ জমি ও ঘর পেয়েছে, অথচ আমি কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি। স্থানীয়রা ভোটার আইডি নিলেও ঘর পাইনি। বিধবা ভাতার জন্য মেম্বারের কাছে গিয়েছি, কাজ হয়নি। সরকারি চালও এক মুঠো পাইনি।”
শাহানুরের শরীর এখন দুর্বল, হাঁটতে কষ্ট হয়। রক্তশূন্যতায় প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার আক্ষেপ— “জানি না কত অসহায় হলে সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়।”
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, “অসহায় ওই নারী আবেদন করলে বিধিমোতাবেক সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”