
বরগুনা সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকায় চার্জে থাকা অটোরিকশার বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. বেল্লাল (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী কমলা বেগম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁদের বড় মেয়ে আরিফা আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত বেল্লাল ও কমলা বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা এলাকার বাসিন্দা। আহত আরিফাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেল্লাল সম্প্রতি নিজের বাড়িতে একটি গরুর খামার নির্মাণ করছিলেন। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ায় সোমবার সকালে প্রয়োজনীয় টিন কিনতে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। এ সময় বাড়িতে চার্জে রাখা নিজের অটোরিকশার বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বেল্লালকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে যান তাঁর স্ত্রী কমলা। একই সময় বড় মেয়ে আরিফাও বাবা-মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রথমে বিদ্যুতের প্রধান সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেল্লাল ও কমলাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বেল্লালের প্রতিবেশী ফিরোজা বেগম বলেন, ‘সকালে চার্জে থাকা অটোরিকশার সংযোগ খুলতে গিয়ে প্রথমে বেল্লাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বেল্লাল ও কমলাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
নিহতের দুলাভাই মো. কবির বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি বেল্লাল ও কমলা আর নেই। তাঁদের বড় মেয়েও আহত হয়েছিল। চিকিৎসা নেওয়ার পর সে এখন কিছুটা সুস্থ রয়েছে।’
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বেল্লাল ও কমলার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।