
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নানা নাটকীয়তার পর সংরক্ষিত নারী সদস্য তাসমিম তানহা সেলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান পরিবর্তন, অনাস্থা প্রস্তাব এবং ইউপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগের মধ্যেই শনিবার (২০ জুন) এ সংক্রান্ত রেজুলেশন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
রেজুলেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। অধিকাংশ সদস্যের সমর্থনে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য তাসমিম তানহা সেলীকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নির্বাচিত করা হয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাসমিম তানহা সেলী স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি আলতাফ মুন্সির পুত্রবধূ। তার স্বামী কামাল মুন্সি যুবদলের প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি পদে রয়েছেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনা। গত ১৬ জুন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আল মামুন এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য রাবেয়া বসরী চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের অপসারণ দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। তবে কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষের চাপের মুখে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এর জের ধরে ১৭ জুন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের উদ্যোক্তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ইউপি উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে মারধর করা হয়। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেছেন। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী ১৮ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। অপরদিকে, ইউনিয়ন পরিষদে সংঘটিত ঘটনাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “প্যানেল চেয়ারম্যান পরিবর্তনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এটি বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়া ও উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”