
পটুয়াখালীর বাউফলে কালাইয়া হাটের ইজারাদারের ব্যক্তিগত গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চালককে মারধর এবং গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
অভিযোগকারী কালাইয়া হাটের ইজারাদার মো. রাজিব হোসেন জানান, সাপ্তাহিক গরুর হাটের খাজনার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িটি কালাইয়ার উদ্দেশে রওনা করেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মো. শাহিন মিয়া (৫৩)। পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে থাকা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কয়েক দফা গাড়িতে ধাক্কা দেন।
রাজিব হোসেনের দাবি, পরে পলি ডায়াগনস্টিকের সামনে পৌঁছালে চালক শাহিন মিয়া ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ফাহাদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও পরে আরও কয়েকজনকে নিয়ে এসে চালককে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাড়ির ভেতরে হাটের খাজনার টাকা ছিল এবং টাকাসহ গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কালাইয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। যানজটের মধ্যে গাড়িটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চালক তার হাত ধরে টেনে ধরেন এবং ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রী ঝুঁকির মুখে পড়েন। ফাহাদ দাবি করেন, “আমি কোনো গাড়িতে ধাক্কা দিইনি। টাকাসহ গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”