
একটি শিশুর জন্ম শুধু একটি পরিবারের জন্য আনন্দের সংবাদ নয়, বরং একটি নতুন ভবিষ্যতের সূচনা। সেই ভবিষ্যৎকে আরও সবুজ ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘জন্মবৃক্ষ’। এখন থেকে ইউনিয়নের কোনো পরিবারে নবজাতকের জন্মের খবর পেলেই সেখানে শুভেচ্ছা, দোয়া ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে পৌঁছে যাবে একদল তরুণ। একই সঙ্গে নবজাতকের নামে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করা হবে দুটি গাছের চারা।
“নতুন প্রাণের আগমনে, দুটি বৃক্ষ আগামীর নামে” স্লোগানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যে আউলিয়াপুর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। শুক্রবার (৫ জুন) আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির শামীম হাওলাদারের ছেলে সাফোয়ান শিশুর নামে দুটি গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘জন্মবৃক্ষ’ তারুণ্যে আউলিয়াপুরের একটি মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আউলিয়াপুর ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতককে শুভেচ্ছা জানানো হবে এবং তার নামে দুটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। একটি শিশুর জন্ম যেমন একটি পরিবারের জন্য আনন্দের বার্তা, তেমনি একটি গাছ পৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ। এই দুইকে একসূত্রে গাঁথার লক্ষ্যেই প্রকল্পটির যাত্রা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এস. এম.সোহান বলেন,“আমরা চাই আউলিয়াপুরের প্রতিটি নবজাতকের জন্মের স্মৃতি একটি বৃক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকুক। শিশুটি যেমন বড় হবে, তার নামে রোপণ করা গাছগুলোও তেমনি বেড়ে উঠবে। জন্মবৃক্ষ শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ অঙ্গীকার। আমাদের স্বপ্ন, একদিন আউলিয়াপুরের হাজারো শিশুর নামে হাজারো বৃক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।”
সংগঠনের উপদেষ্টা ও উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব মৃধা বলেন,“একটি শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য যেমন পরিবার প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একটি বাসযোগ্য পরিবেশ। জন্মবৃক্ষ প্রকল্প নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।”
পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও সংগঠনের উপদেষ্টা সোহরাব হোসেন বলেন,“বর্তমান সময়ে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় নবজাতকের জন্মকে কেন্দ্র করে বৃক্ষরোপণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, তারুণ্যে আউলিয়াপুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অন্য সংগঠনগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।”
উল্লেখ্য, তারুণ্যে আউলিয়াপুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।