
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটিয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু হাবিবা আক্তার রোজা। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা সড়কের ইলিশা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবা আক্তার রোজা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুলাল মেকার বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর মো. গিয়াসউদ্দিন ও বিবি কুলসুম বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে পরিবারের সদস্যরা ইলিশা লঞ্চঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। হাবিবা তার মা কুলসুম বেগম, ভাই জুনায়েদ, খালা সুমাইয়া ও ফুফু জান্নাতকে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে ইলিশা বাজার এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার অপর পাশ থেকে একটি শিশু হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে।
তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অটোরিকশার চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে হাবিবাসহ পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। হাবিবার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাবিবার বাবা মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবাই গ্রামে এসেছিলেন। ব্যক্তিগত কারণে তিনি দুই দিন পরে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা সেদিনই রওনা হন। পথে ঘটে যায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।
তিনি বলেন, “কে জানত ঈদ করতে বাড়িতে এসে মেয়েটাকে চিরদিনের জন্য হারাতে হবে? আমার একটাই মেয়ে ছিল। আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।”
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ঈদের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরা একটি পরিবারের জন্য এই দুর্ঘটনা গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে হাবিবার পরিবার।