
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ এশিয়ান গেমসের হকি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বাছাই টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষ দুই দলের একটি হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক অর্জন গড়ে তোলে অর্পিতা পালরা।
এশিয়ান হকি ফেডারেশন আয়োজিত বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার হংকংকে ২-১ গোলে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতে হংকং এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ খেলায় সমতা ফেরায়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে উভয় দলই গোলশূন্য থাকে। তৃতীয় কোয়ার্টারে এমারের অ্যাসিস্ট থেকে কনার গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। গোলরক্ষকের সামনে পড়া বল স্টিক দিয়ে দারুণ দক্ষতায় জালে জড়ান কনা। শেষ কোয়ার্টারে আরও পেনাল্টি কর্নার পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের কোচ জাহিদ হোসেন রাজুর শিষ্যরা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ২-১ গোলে পরাজিত করে অভিষেকেই জয় আদায় করে।
বাংলাদেশে হকির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও নারী হকির সিনিয়র জাতীয় দল এবারই প্রথম গঠিত হয়। বিকেএসপির নারী খেলোয়াড়রাই মূলত এই দলের ভিত্তি গড়েছেন। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছে এই নবগঠিত দল।
এশিয়ান হকি ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাছাই পর্ব থেকে মোট ছয়টি দল এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া এবং শক্তিশালী এশীয় দলগুলো।
১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও নারী হকিতে এটিই দেশের প্রথম উপস্থিতি। পুরুষ হকি দল দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। নারী হকির এই ঐতিহাসিক অগ্রগতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।