
লন্ডনভিত্তিক ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক হর্স পাওয়ারট্রেন লিমিটেড ভারতে উৎপাদন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ভারত সরকারের ছোট গাড়ির ওপর জিএসটি হ্রাসের ফলে সৃষ্ট ১.২ লিটার দক্ষ ইঞ্জিনের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গৃহীত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ম্যাটিয়াস জিয়ানিনি জানান, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতে আইনি সত্তা অনুমোদনের প্রত্যাশা রয়েছে।
ভারতের অটোমোবাইল খাতে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তন ছোট ও জ্বালানি-দক্ষ যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ৪ মিটারের কম দৈর্ঘ্য এবং ১.২ লিটার বা তার কম ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন পেট্রোল চালিত ছোট গাড়ির ওপর জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ করে। এই পরিবর্তনের ফলে অটোমোবাইল প্রস্তুতকারকরা দক্ষ ১.২ লিটার ইঞ্জিনের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানান হর্স পাওয়ারট্রেনের প্রধান নির্বাহী ম্যাটিয়াস জিয়ানিনি।
হর্স পাওয়ারট্রেন ২০২৪ সালে ফরাসি অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক রেনো ও চীনা জিলির যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়, যার সদর দপ্তর লন্ডনে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি ফসিল-ফুয়েল ইঞ্জিন ও হাইব্রিড সিস্টেম সরবরাহ করে, যা বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
জিয়ানিনি জানান, হর্স পাওয়ারট্রেন ভারতে নিজস্ব আইনি সত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন জমা দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এর অনুমোদনের প্রত্যাশা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় অংশীদারিত্ব ও অন্যান্য হর্স সুবিধা থেকে আমদানির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে, পরবর্তীতে স্থানীয় উৎপাদনে সম্প্রসারণ করা হবে। লক্ষ্য হলো শুধু ভারতীয় বাজারে সরবরাহ নয়, বরং ভারতকে রপ্তানি হাব হিসেবে ব্যবহার করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানো।
বর্তমানে হর্স পাওয়ারট্রেন ইউরোপ, চীন ও লাতিন আমেরিকায় ১৮টি উৎপাদন কেন্দ্র এবং পাঁচটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালনা করছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেও কার্যক্রম শুরু করেছে। গ্রাহক তালিকায় রয়েছে রেনো, জিলি, ভলভো, মার্সিডিজ-বেন্জ ও নিসানসহ শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারকরা। জিয়ানিনি উল্লেখ করেন, শীর্ষস্তরের সব অটোমোবাইল কোম্পানির সাথে আলোচনা চলমান এবং কিছু ক্ষেত্রে বড় চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের জিএসটি সংস্কার ছোট গাড়ির বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে, যা হর্সের মতো পাওয়ারট্রেন সরবরাহকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে স্থানীয় উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই বাজার উপস্থিতি গড়ে তোলাই হবে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফোকাস।