
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শুক্রবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করেছে, যা ওয়াশিংটন “নার্কো-সন্ত্রাসী” লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বর্ণনা করলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে “বিচারবহির্ভূত হত্যা” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে “মনোনীত সন্ত্রাসী সংস্থা” দ্বারা পরিচালিত একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, তবে সংস্থাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। হামলায় কোনো মার্কিন সামরিক কর্মী আহত হননি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
“গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে যে জাহাজটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল,” সাউদার্ন কমান্ড এক্স প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করে। কমান্ড থেকে প্রকাশিত ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে জাহাজটিতে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাদক পরিবহনের অভিযোগে একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই ধরনের হামলায় ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাগুলোকে “অবৈধ বিচারবহির্ভূত হত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলোকে “অপ্রমাণিত, ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি” বলে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার শিকার ব্যক্তিদের “পুরুষ নার্কো-সন্ত্রাসী” হিসেবে বর্ণনা করলেও তাদের পরিচয় বা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, সংঘাতচলাকালীন নয় এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী কর্তৃক এই ধরনের হামলার আইনি ভিত্তি কী।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় মাদক পাচারের একটি প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘকাল ধরে এই রুটে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসলেও, সাম্প্রতিক হামলার ধরন ও মাত্রা নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।