
পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকায় ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হারুনকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে দাঁত ও চোখের ডাক্তার পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারুন নামের ওই ব্যক্তি কোনো প্রকার বৈধ চিকিৎসা সনদ ছাড়াই মহিপুরসহ আশপাশের এলাকায় দাঁত ও চোখের ডাক্তার হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত কিছু আপত্তিকর ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার প্রকৃত চেহারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। তবে ছবিতে থাকা তরুণীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমরা আগে থেকেই সন্দেহ করতাম। তিনি ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা দিতেন। এখন এসব ঘটনা সামনে আসায় আমরা সত্যিই হতবাক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “তার কাছে চিকিৎসা নিয়ে আমরা প্রতারিত হয়েছি। টাকা নিয়েছে, কিন্তু কোনো সঠিক চিকিৎসা দেয়নি।”
অভিযুক্ত হারুন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো তার সাবেক স্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের দাবি, হারুন এর আগেও ভুয়া ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে কারাভোগ করেছেন। জেল থেকে বেরিয়ে এসে তিনি পুনরায় একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, “অভিযুক্তের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে ভুয়া চিকিৎসকদের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।