
ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) জানুয়ারি বৈঠকের মতামত সারাংশে দেখা গেছে, কিছু নীতিনির্ধারক দুর্বল ইয়েনের কারণে মূল্যচাপ বাড়ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘বিহাইন্ড দ্য কার্ভ’ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, দুর্বল ইয়েন মোকাবিলার একমাত্র উপায় হলো সুদহার বাড়ানো।
ব্যাংক অব জাপানের জানুয়ারি ২২-২৩ বৈঠকের মতামত সারাংশ সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানি মূল্য বাড়ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে বোর্ড সদস্যরা আলোচনা করেছেন।
কিছু সদস্য মনে করেন, মজুরি বৃদ্ধি, বিদেশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের আশা এবং দুর্বল ইয়েনের কারণে মূল্য দৃষ্টিভঙ্গির ঝুঁকি উল্টো দিকে (আপসাইড) ঝুঁকেছে। একজন বলেছেন, জাপানের মুদ্রাস্ফীতি “স্টিকি” হয়ে উঠছে। আরেকজন সতর্ক করেছেন, ইয়েন আরও কমলে মুদ্রাস্ফীতি কমানো কঠিন হবে।
এক মতামতে বলা হয়েছে, “বিদেশি সুদহার পরিবেশ এ বছর বদলে গেলে ব্যাংক অজান্তেই পিছিয়ে পড়তে পারে।” আরেকটি মতামতে বলা হয়েছে, “দুর্বল ইয়েন ও বন্ড ইয়েল্ড বাড়ার মোকাবিলার একমাত্র উপায় সময়মতো সুদহার বাড়ানো।” একজন বলেছেন, “মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ জাপানের জরুরি অগ্রাধিকার। পরবর্তী হাইকের জন্য উপযুক্ত সময় মিস না করে এগোনো উচিত।”
বিওজে জানুয়ারিতে সুদহার ০.৭৫% এ স্থির রেখেছে, যা ডিসেম্বরে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতির হকিশ পূর্বাভাস বজায় রেখেছে এবং আরও সুদহার বাড়ানোর প্রস্তুতি দেখিয়েছে।
জেপি মরগান সিকিউরিটিজের জাপান চিফ ইকোনমিস্ট আয়াকো ফুজিতা বলেন, “আমরা এপ্রিলে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা বেশি দেখছি—বাজারের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ জুন-জুলাই ভাবলেও। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মার্চে হাইকও পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না।”
সোয়াপ মার্কেট এপ্রিলের মধ্যে সুদহার ১%-এ উঠার ৮০% সম্ভাবনা দিয়েছে—দুর্বল ইয়েন মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত করবে বলে।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দুর্বল ইয়েন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়েছে।