
মাত্র ৩০ হাজার টাকা আয় দিয়ে শুরু। এখন মাসে আয় করছেন প্রায় এক লাখ টাকা। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বোচ্চ এক মাসে আয় করেছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বলছি ভোলার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স আইউবের কথা। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি।
ভোলা সদরের আলিনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে জন্ম প্রিন্স আইউবের। তবে বেড়ে উঠেছেন ভোলা টাউন স্কুলসংলগ্ন এলাকায়। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা প্রয়াত হজরত আলী বাদশা ও গৃহিণী আয়শা বেগমের বড় সন্তান তিনি। তাঁর একটি ছোট বোন রয়েছে।
প্রিন্স আইউব ২০২৪ সালে ভোলার একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে ভোলা সরকারি কলেজে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরিকে তিনি নিজের কাজ ও আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
২০১৮ সালে টিকটকে ছোট পরিসরে কনটেন্ট তৈরির মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। পরে লাইকি প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন। ২০১৯ সালে ধীরে ধীরে ফেসবুক পেজে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। কয়েক বছরের প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিকতার পর ২০২১ সালে তাঁর ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন পায়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর আয়।
প্রিন্স আইউবের ভাষ্য অনুযায়ী, মনিটাইজেশনের শুরুতে তাঁর আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে ফেসবুক থেকে মাসে গড়ে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। এ পর্যন্ত এক মাসে তাঁর সর্বোচ্চ আয় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শুধু ফেসবুকেই তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব মিলিয়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ বলে জানান তিনি।
তবে আয় ও জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও বলছেন প্রিন্স আইউব। তাঁর আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যয় করেন বলে জানান তিনি। বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কনটেন্টও তৈরি করেন।
প্রিন্স আইউব বলেন, “শুরুটা ছিল একেবারেই ছোট পরিসরে। তখন এটিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবিনি। নিয়মিত কাজ করতে করতে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখন চেষ্টা করছি পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে এবং মানুষের জন্য কিছু করতে।”
তরুণ এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের গল্প দেখাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একজন তরুণ কীভাবে নিজের দক্ষতাকে আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন। তবে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পড়াশোনা, কনটেন্ট নির্মাণ ও সামাজিক দায়িত্ব—তিনটি বিষয়ই সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া।