
বরিশালের মুলাদীতে কৃষক হারুন হাওলাদার (৫৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫) গ্রেপ্তার হলেও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও সম্ভাব্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার জেরে স্বামীকে একাই হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছেন স্ত্রী। তবে একজন নারীর পক্ষে একাই এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার।
মামলার নথি ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন রাতে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর ছেলে জাফর হাওলাদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন, যেখানে প্রধান সাক্ষী ছিলেন নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম। তিনি দাবি করেছিলেন, অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে হাত ও চোখ বেঁধে ট্রলারে করে তুলে নিয়ে গেছে।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা সেলিনা বেগমের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করলে ২৯ জুন সকালে তাঁরা হারুনের বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় রান্নাঘরের পাশে নতুন মাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। পরে ওই দিন বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ মাটি খুঁড়ে হারুন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় এবং এতে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা করেন সেলিনা বেগম। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তিনি একাই এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী জাফর হাওলাদার পুলিশের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ জানিয়েছিল আমার বাবাকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মা অণ্ডকোষ চেপে হত্যার কথা স্বীকার করেন। একজন নারীর পক্ষে একাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হত্যা করে গভীর রাতে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া সম্ভব নয়।’
সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হান্নান চৌকিদারও এই সন্দেহের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘একজন নারীর একার পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। সেলিনা বেগমের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে।’ তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, যারা সম্প্রতি ফিরে এসেছেন।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘হারুন হাওলাদার হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে একাই হত্যার কথা বলেছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক বা হয়রানি করা হবে না। তবে ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে। অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’