
পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত গলাচিপা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। পরিদর্শনকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী মাসের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে পুরোদমে মূল নির্মাণকাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গলাচিপা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম। তারা প্রকল্পের জন্য ভূমি অফিস থেকে বরাদ্দ দেওয়া ৪ একর জমির ব্যবহার, নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখেন। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত জমির বাইরে কোনো সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স-এর প্রকল্প কার্যালয় এবং নির্মাণশ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসন নির্মাণকাজ দেখেন। এসময় প্রকল্পের মূল কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা জানতে চাইলে এম এম বিল্ডার্সের রাবনাবাদ সেতু প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রলয় সরকার জানান, বর্তমানে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। ক্যাম্প স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ আগামী মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই পুরোদমে মূল সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। শুরুতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বিস্তারিত নকশা, নদীশাসন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত কাজ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাবনাবাদের মতো প্রশস্ত নদীর ওপর সেতু নির্মানে পিলার ও নদীতীরকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় নদীশাসনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার (প্রায় ০.৮৮৩ কিলোমিটার) এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৬ মিটার। নদীর পানির স্বাভাবিক স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট, যাতে বড় নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। সেতুটিতে মোট ১৮টি পিলার নির্মাণ করা হবে; এর মধ্যে ৫টি নদীর মধ্যে এবং ১৩টি দুই তীরে থাকবে। সেতুর এক প্রান্ত হবে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এবং অপর প্রান্ত হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়।
গলাচিপা সেতু নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরিনির্ভর যাতায়াতের অবসান ঘটবে। এতে কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। জরুরি সেবা ও দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমও হবে দ্রুত ও কার্যকর। স্থানীয়রা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।