
পটুয়াখালীতে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লালকার্ড’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) পৌরসভার প্রশাসকের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম বন্ধে পাঁচ দফা সুপারিশ সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে। রবিবার (১৪ জুন) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সহায়তায় সনাক পটুয়াখালী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সকাল ১০টায় কলেজ রোডস্থ সনাক কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পটুয়াখালী পৌরসভাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে এখনো শিশুশ্রম বিদ্যমান। হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ডাম্পিং স্টেশন ও রাস্তাঘাট থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছে। মেডিকেল বর্জ্যসহ ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান বাছাইয়ের কাজে কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তারা কাজ করছে, যা তাদের বিষাক্ত পদার্থ ও রোগব্যাধির ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে সনাকের পক্ষ থেকে পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা, শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দ্রুত হালনাগাদ করা, ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা, বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকে শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকাভুক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সনাক পটুয়াখালীর সভাপতি অ্যাডভোকেট সহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন সনাকের পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক পীযুষ কান্তি হরি। তিনি বলেন, “শিশুশ্রম শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুদের সম্পৃক্ততা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কর্মসূচিতে বিডিক্লিন, ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সনাক, সিভিক গ্রুপ ও ইয়াং ইংলিশ স্পিকার্স (ওয়াইইএসএস)-এর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।