
বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের সাত দিন পর অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মধ্যরাতে নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, নিহতের স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি আলাদা কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৪) ও তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে যে, দুই মেয়েকে হত্যার পর মা নিজে আত্মহত্যা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে।
তবে পরিবারের সদস্যরা এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের সময়ও স্বজন ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘গতকাল রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছি। এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য আরেকজনকে বাদী হতে বলা হয়। আদালতে গেলেও প্রাথমিকভাবে মামলা নিতে চায়নি। পরে রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়েছে।’
বর্তমানে পুলিশ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।