
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ছয় ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ। পবিত্র ঈদুল আজহার মধ্যে এ ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার সফিপুর, বাটামারা, নাজিরপুর, গাছুয়া, চরকালেখান ও মুলাদী সদর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অনেকে বৃহস্পতিবার কুরবানি দেননি। মাংস সংরক্ষণের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ শুক্রবার পশু কুরবানি করেছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অটোভ্যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ পরিবহণ সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুতের মুলাদী আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, গত বুধবার কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ও ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় এবং কিছু স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ভেঙে যাওয়ায় সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয় দেখা দেয়।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, “পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় গাছের ডালপালা অপসারণ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংস্কারে সময় লাগছে। ঝড়ে গাছ ও ডালপালা পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ও ইনসুলেটর ভেঙে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনে কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।”
মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দীন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই। বারবার ফোন করেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কবে বিদ্যুৎ আসবে তাও নিশ্চিত নয়।”
চরকালেখান গ্রামের মো. মতিউর রহমান ব্যাপারী বলেন, “গত মঙ্গলবার রাত থেকেই চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। মাংস সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বৃহস্পতিবার কুরবানি করেননি।”
মুলাদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) তারেকুল ইসলাম জানান, “কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু এলাকায় ৩৩ কেভি লাইন সংস্কার করে মুলাদী উপজেলা সদর, পৌরসভার চারটি ওয়ার্ড এবং কাজিরচর ইউনিয়নে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ চলছে।”
বাংলাদেশে গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় একটি সাধারণ সমস্যা। কালবৈশাখী ঝড়, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ খুঁটি, তার ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত মেরামত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিকল্প শক্তি উৎসের ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।