
ভোলা সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড়ের কবলে পড়ে পাঁচটি মাছধরা নৌকা ডুবে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা জেলে নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি। নদীতে ডুবে যাওয়া নৌকাগুলোরও এখনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার (২৭ মে) সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শিবপুর ও ইলিশা লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের নদী পাহাড়াদার মো. জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডুবে যাওয়া নৌকাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকার দুলাল মাঝি, জামাল মাঝি ও ফিরোজ মাঝির নৌকা এবং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের শামীম মাঝির নৌকা। এছাড়া আরও একটি ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার জেলেদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলেরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় শুরু হলে নদীতে তীব্র বাতাস ও বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জামাল মাঝির নেতৃত্বে দুই জেলে, ফিরোজ মাঝিসহ চার জেলে এবং দুলাল মাঝিসহ দুই জেলের নৌকা ডুবে যায়।
ঝড়ের মধ্যে জেলেদের চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা অন্যান্য জেলেরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। কয়েকজনকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়, আর কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন।
একই সময়ে ইলিশা ফেরিঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে শামীম মাঝিসহ দুই জেলে মাছ ধরছিলেন। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের তোড়ে তাদের নৌকাটিও ডুবে যায়। পরে আশপাশের জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চলেও আরেকটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। সেখানকার জেলেরাও নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।
ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের নদী পাহাড়াদার মো. জাফর বলেন, “ভোলার মেঘনা নদীতে আজ মোট পাঁচটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। চারজন ক্ষতিগ্রস্ত জেলের নাম জানা গেলেও একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান দুপুরে জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো জেলে নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।”