
বরিশালে বুধবার সকালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার আগের দিন হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মেঘনার তীরবর্তী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী আঘাত হানে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুনারচরে হানিফ পোদ্দারের বাড়ির ওপর গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকার সরদার বাড়ির সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে।
পার্শ্ববর্তী হিজলা উপজেলায়ও ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মুলাদী উপজেলার পশ্চিম চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মাস্টার দলিল উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার পর হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, “ঈদের আগে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।”
পল্লী বিদ্যুতের বরিশাল অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঝড়ের কারণে মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়ায় চারটি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। এছাড়া চুনারচর এলাকায়ও খুঁটি ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বুধবারের মধ্যেই সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকালে জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে। একই সময়ে ১৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে এমন আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জনজীবনে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।