
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও ঘাটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় লঞ্চ, খেয়া ও ফেরিঘাটে বাড়ানো হয়েছে টহল, নজরদারি এবং তল্লাশি কার্যক্রম।
রোববার (২৪ মে) সকালে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. আরিফ হোসেন।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ভোলার ইলিশা, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমুহনী, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও আলেকজান্ডার, বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানীয়া ও পুরাতন হিজলা, পটুয়াখালীর আলীপুর, কালাপাড়া ও বাউশিয়া, নোয়াখালীর তমরুদ্দিন ও রাম নেওয়াজ, বরগুনার কাকচিড়া এবং পাথরঘাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ, খেয়া ও ফেরিঘাটে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
ক্যাপ্টেন আরিফ হোসেন জানান, যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ কন্ট্রোল রুমে কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি এবং যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের মতো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির পশু পরিবহন নিরাপদ রাখতে এবং গরু-মহিষসহ অন্যান্য পশুর চোরাচালান ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় উচ্চগতির বোটসহ একাধিক টহল দল মোতায়েন রয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রীবহনজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নৌযানে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতেও কাজ করছে কোস্ট গার্ড।
ক্যাপ্টেন আরিফ বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে নির্ধারিত ঘাট ছাড়া ছোট বোট বা ট্রলারে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা পেতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে নেওয়া এ নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।